প্রকাশিত:
২ জানুয়ারী, ২০২৬

চিকিৎসকেরা সাধারণত হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে ট্রাম্পকে প্রতিদিন ৮১ মিলিগ্রামের ‘বেবি অ্যাসপিরিন’ সেবনের পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু ট্রাম্প প্রকাশ করেছেন যে, তিনি গত ২৫ বছর ধরে প্রতিদিন ৩২৫ মিলিগ্রাম করে অ্যাসপিরিন নিচ্ছেন—যা নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে প্রায় ৪ গুণ বেশি। ট্রাম্পের যুক্তি, তিনি চান না তার হৃদপিণ্ড দিয়ে ‘ঘন রক্ত’ প্রবাহিত হোক। চিকিৎসকদের মতে, এই অতিরিক্ত মাত্রায় রক্ত পাতলা হয়ে যাওয়ার ফলে তার শরীরে দ্রুত কালশিটে দাগ পড়ছে।
অতিরিক্ত অ্যাসপিরিন সেবনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ট্রাম্পের হাত ও শরীরে কালশিটে দাগ দেখা দিচ্ছে। এই দাগগুলো সাধারণ মানুষের নজর থেকে আড়াল করতে তিনি নিয়মিত মেকআপ ব্যবহার করেন বলে স্বীকার করেছেন। তার দাবি, মাত্র ১০ সেকেন্ডের মধ্যেই এই মেকআপ দিয়ে তিনি দাগগুলো ঢেকে ফেলেন।
গত অক্টোবর মাসে ট্রাম্পের এক গোপন স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তখন তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন যে তার ‘এমআরআই’ (MRI) করা হয়েছে। কিন্তু সাক্ষাৎকারে তিনি ভুল স্বীকার করে জানান, সেটি আসলে ছিল একটি ‘সিটি স্ক্যান’ (CT Scan)। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক শন বারবায়েলা জানান, প্রেসিডেন্টের হৃৎপিণ্ডে কোনো ব্লক বা অস্বাভাবিকতা আছে কি না, তা পরীক্ষা করতেই এই স্ক্যান করা হয়েছিল।
বার্ধক্যজনিত কারণে ট্রাম্পের পা ফুলে যাওয়ার সমস্যা (Chronic Venous Insufficiency) রয়েছে। চিকিৎসকেরা তাকে বিশেষ ‘কমপ্রেশন মোজা’ পরার পরামর্শ দিলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। পরিবর্তে তিনি মাঝে মাঝে হাঁটাচলা করে রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখার চেষ্টা করেন। শরীরচর্চা প্রসঙ্গে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, "ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেডমিলে হাঁটা বা দৌড়ানো আমার কাছে চরম বিরক্তিকর।" গলফ খেলা ছাড়া অন্য কোনো ব্যায়ামে তার আগ্রহ নেই।
জনসমক্ষে বা বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সভায় ট্রাম্পের ঘুমিয়ে পড়ার ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই ভাইরাল হয়। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্পের অদ্ভুত দাবি, তিনি ঘুমান না বরং চোখ বন্ধ রাখাটা তার কাছে ‘আরামদায়ক’ মনে হয়। শ্রবণশক্তির সমস্যার কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, আলোকচিত্রীরা তার চোখের পলক ফেলার মুহূর্তকে ‘ঘুমন্ত’ হিসেবে প্রচার করে।
বয়স: ৭৯ বছর (যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রবীণতম প্রেসিডেন্ট)।
ওষুধ: নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে ৪ গুণ বেশি অ্যাসপিরিন সেবন।
লুকানোর চেষ্টা: হাতের কালশিটে ঢাকতে বিশেষ মেকআপের ব্যবহার।
অসঙ্গতি: এমআরআই স্ক্যান নিয়ে আগে দেওয়া তথ্যের সাথে বর্তমান বক্তব্যের অমিল।
চিকিৎসকের মত: চিকিৎসক তাকে দায়িত্ব পালনের জন্য ‘পুরোপুরি উপযুক্ত’ বললেও জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন।
উপসংহার: মাঠের রাজনীতিতে ট্রাম্প নিজেকে অপরাজেয় দাবি করলেও, তার জীবনযাত্রার এই অভ্যাসগুলো দীর্ঘমেয়াদে বড় কোনো ঝুঁকির সংকেত দিচ্ছে কি না—তা নিয়ে রাজনৈতিক ও চিকিৎসা মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।